অদৃশ্য জগতের দ্বার

Part 1 - অজানার পথে

আমি তখনও বুঝিনি—যে দৃশ্যটা দেখতে যাচ্ছি, সেটা স্বাভাবিক কিছু না...

“সংসার দুঃখময়…”

এই উপলব্ধিটা হঠাৎ করে আসেনি। বছরের পর বছর মানুষের ভেতরের অন্ধকার, প্রতারণা, নিষ্ঠুরতা—সব দেখেছি খুব কাছ থেকে।

আমি ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর একজন সদস্য ছিলাম। আমার কাজ ছিল রহস্য খোঁজা, সত্য উদঘাটন করা।

কিন্তু একটা সময় এসে মনে হলো—সব সত্য জানার পরও মানুষ বদলায় না। বরং আরো হিংস্র হয়ে ওঠে।

তাই একদিন সব ছেড়ে দিয়ে বেরিয়ে পড়লাম। কোনো নির্দিষ্ট গন্তব্য নেই।

শুধু একটাই উদ্দেশ্য—নিজেকে খুঁজে পাওয়া… অথবা হয়তো এমন একটা জায়গা, যেখানে মানুষ এখনো মানুষ আছে।

ঘোড়ার পিঠে বসে আমি এগিয়ে চলেছি।

সামনে ঢেউ খেলানো জমি। কোথাও পুরো সমতল নয়, আবার পাহাড়ও নয়।

যেন প্রকৃতি নিজেই ক্লান্ত হয়ে মাঝপথে থেমে গেছে।

গাছগুলো অদ্ভুত—একটা আরেকটার থেকে দূরে দাঁড়িয়ে আছে।

যেন তারা একে অপরের সঙ্গে কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছে বহু বছর আগে।

পাতাগুলো প্রায় নেই বললেই চলে। ছায়া নেই, আশ্রয় নেই—শুধু এক ধরনের শূন্যতা।

আকাশের দিকে তাকালাম।

নীল আর লাল মেঘের মিশ্রণে এক অদ্ভুত দৃশ্য তৈরি হয়েছে।

মাঝে মাঝে মেঘের ফাঁক দিয়ে সূর্যের আলো বেরিয়ে আসছে—কিন্তু সেটাও যেন প্রাণহীন।

ঠিক তখনই আমি দেখলাম—

একটা পুরোনো দু-চাকার গাড়ি। সামনে একটা ক্লান্ত ঘোড়া।

গাড়িতে বসে আছে কয়েকজন শিশু।

আর তাদের সামনে দাঁড়িয়ে একজন লোক।

লোকটা প্রথম দেখাতেই অস্বাভাবিক মনে হলো।

তার চোখে কোনো অনুভূতি নেই। মুখে কোনো অভিব্যক্তি নেই।

যেন সে মানুষ নয়—মানুষের মতো কিছু একটা।

আমি একটু দূরে দাঁড়িয়ে লক্ষ করতে লাগলাম।

লোকটা এক এক করে বাচ্চাদের মাথায় কাপড় বাঁধছে।

কাপড়টা দেখতে সাধারণ হলেও, তার মধ্যে কিছু একটা অস্বাভাবিক ছিল।

একটা ছেলে কাঁদতে কাঁদতে বলল,

“না… আমি এটা চাই না…”

লোকটা থামল না। বরং আরো শক্ত করে বেঁধে দিল।

“চুপ… এটা তোমার জন্যই ভালো।”

তার কণ্ঠে কোনো রাগ নেই, কোনো সহানুভূতিও নেই—শুধু শীতলতা।

কাপড় বাঁধা শেষ হওয়ার পর অদ্ভুত একটা ঘটনা ঘটল।

যে ছেলেটা একটু আগে কাঁদছিল, সে হঠাৎ চুপ হয়ে গেল।

তার চোখের দৃষ্টি ফাঁকা হয়ে গেল। যেন তার ভেতরের কিছু একটা নিভে গেছে।

আমার বুকের ভেতরটা হালকা কেঁপে উঠল।

ঠিক তখনই দূরে কোথাও একটা যন্ত্রের শব্দ ভেসে এলো।

একটা তীক্ষ্ণ, কর্কশ আওয়াজ।

আর সাথে সাথে বাচ্চাগুলো ছটফট করতে শুরু করল।

তারা কান চেপে ধরে চিৎকার করছে।

লোকটা বিরক্ত হয়ে চারপাশে তাকাল।

“শব্দটা বন্ধ করো!”

কিছুক্ষণ পর শব্দ থেমে গেল।

আর বাচ্চাগুলো আবার শান্ত হয়ে গেল।

আমার মাথার ভেতর প্রশ্নের ঝড় উঠল।

ওরা কারা?

এই লোকটা কে?

আর এই কাপড়ের ভেতরে কী আছে?

আমি সিদ্ধান্ত নিলাম—ওদের অনুসরণ করব।

Continue ➡
🏠 Home

💬 নীচে আপনার মতামত জানান