যে দরজাটা চোখের সামনে ছিল—তবুও আমরা দেখতে পাইনি।
মাটি নিজেই তার রহস্য লুকিয়ে রাখে… আর কাউকে সহজে তা জানতে দেয় না।
কিন্তু সেদিন—আমরা সেই লুকানো দরজাটাকে জাগিয়ে তুলেছিলাম।
লোকটা নদীর ধারের সেই জায়গায় গেল।
ঠিক সেই জায়গা—যেখানে আমি প্রথমবার ওদের হারিয়েছিলাম।
সে নিচু হয়ে মাটি থেকে কিছু একটা তুলল।
আমাদের চোখের সামনে—
মাটির ভেতর থেকে উঠে এলো একটা গোলাকার ধাতব চাকতি।
আমার বুকের ভেতর ধক করে উঠল।
“এইটাই…” আমি ফিসফিস করলাম।
লোকটা কোনো কথা না বলে চাকতিটা খুলে ভেতরে ঢুকে গেল।
আমরা দৌড়ে গেলাম।
কিন্তু…
সেখানে কিছুই নেই।
না কোনো দরজা, না কোনো গর্ত।
শুধু ফাঁকা মাটি।
আমার টিম হতাশ হয়ে পড়ল।
একজন বলল,
“স্যার, হয়তো আমরা ভুল করছি…”
আমি চুপ করে রইলাম।
আমার মনে হচ্ছিল—
আমরা খুব কাছে এসেও কিছু একটা মিস করছি।
এটির জন্য আমার টিম আর উৎসাহ দেখালো না।
তারা ফিরতে চাইল।
অগত্যা তাই আমিও তাদের সাথে ফিরে এলাম।
ফিরে এসে কিছুতেই আমার মন শান্ত হলো না।
সারাক্ষণ আমার মাথায় সেই সব দৃশ্য চক্কর কাটতে থাকলো।
সেই রহস্য উদঘাটনের নেশা আমাকে পাগল করে দিচ্ছিল।
আমার সঙ্গিনী আমার পরিস্থিতি বুঝতে পারল।
সে আমাকে সাহস দিল।
বলল—আমরা আবার যাবো।
কয়েকদিন পর…
আমি আর আমার সঙ্গিনী বেরিয়ে পড়লাম।
কিন্তু সঙ্গিনীর বান্ধবী আবার জেদ ধরল আমাদের সাথে যাওয়ার।
আমি আর আমার সঙ্গিনী—আর তার বান্ধবীকে নিয়ে যথাস্থানে উপস্থিত হলাম।
“তুমি নিশ্চিত?”
সে আমার হাত চেপে ধরল।
আমি মাথা নাড়লাম।
“আজ কিছু একটা বের হবেই।”
আমরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা খুঁজলাম।
কিছুই পেলাম না।
ক্লান্ত হয়ে একটু দূরে বসে পড়লাম।
ঠিক তখনই—
মাটির ভেতর থেকে কিছু একটা উঠতে শুরু করল।
আমরা স্থির হয়ে গেলাম।
ধীরে ধীরে উঠে এলো—
একটা সরু ধাতব এন্টেনার মতো বস্তু।
কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে আবার নেমে গেল।
আমি দৌড়ে গেলাম সেই জায়গায়।
“এইখানেই…”
আমি মাটি খুঁড়তে শুরু করলাম।
মাটি শক্ত ছিল।
হাত কেটে যাচ্ছিল।
কিন্তু আমি থামিনি।
কিছুক্ষণ পর—
ঠক!
ধাতব শব্দ।
আমি মাটি সরিয়ে ফেললাম।
আর তখনই দেখা দিল—
সেই গোলাকার চাকতি।
আমার শ্বাস বন্ধ হয়ে আসছিল।
আমি ধীরে সেটাকে তুললাম।
নিচে অন্ধকার।
একটা সুড়ঙ্গ।
আমি সঙ্গিনীর দিকে তাকালাম।
সে মৃদু হাসল।
“চলো…”
আমরা তিনজন…
অজানার দিকে নেমে গেলাম।